মেনু নির্বাচন করুন

স্টলসমূহ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সামনে রেখে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’। নতুন বছরের ৯-১১ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এই মেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। প্রতিবছর এই দিনটি সভা-সেমিনার ও র‌্যালি আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়ে এলেও এবারই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে মেলার মাধ্যমে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দেশ কতটুকু এগিয়েছে সেসব বিষয় উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেসব বিষয় তুলে ধরতে বিদেশী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন মেলায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এবারের উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য বিমোচন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বাজেটে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুও দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর দারিদ্র্য বিমোচনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের অর্থনীতি আর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ হতে পারেনি। তবে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের কৌশলগত দলিল হিসেবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১) প্রণয়ন করে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মকৌশল ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ২০১০-২০১৫ মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এ সময়ে আর্থ-সামাজিক খাতে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। কর্মসংস্থান, মজুরি, খাদ্যশস্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, আমদানি-রফতানিসহ সকল অর্থনৈতিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি বজায় রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা। সরকারের দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচী এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্যের হার কমার পাশাপাশি বৈষম্যও হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৫ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের অন্যান্য লক্ষ্যসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ২০১৬-২০২০ অর্জন করা সম্ভব হবে।


Share with :

Facebook Twitter